বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক শুল্কহার কমে ১৯ শতাংশ
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক স্বাক্ষরিত হয়েছে। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রফতানিতে রেসিপ্রোকাল শূন্য শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ।
এর আগে, ৩৭ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং পরে গত বছরের আগস্টে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা এবং কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে বাংলাদেশে তৈরি নির্দিষ্ট কিছু টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক পণ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শূন্য পারস্পরিক শুল্ক সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে একটি বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
অ্যাম্বাসেডর গ্রিয়ার আলোচনার পুরো প্রক্রিয়ায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সামগ্রিক নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের আলোচক দলের ‘অবিশ্বাস্য প্রচেষ্টার’ প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির সঙ্গে বাংলাদেশকে আরও সমন্বিত করবে।’
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেন, এই চুক্তি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে ঐতিহাসিকভাবে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের জন্য পরস্পরের বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে অধিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে।’
এদিকে, চুক্তিটি সোমবার উপদেষ্টা পরিষদ অনুমোদন করেছে এবং উভয় পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির পর এটি কার্যকর হবে।
