ঢাকা বুধবার, ৫ই আগস্ট ২০২০, ২২শে শ্রাবণ ১৪২৭


৮৯৮টি স্থাপনায় এডিসের লার্ভা


১৪ জুলাই ২০২০ ১৯:০৬

আপডেট:
১৪ জুলাই ২০২০ ১৯:১৩

ছবি সংগৃহীত

এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নগরবাসীকে ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষা দিতে ৪ জুলাই শুরু হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি)দশ দিনব্যাপী দ্বিতীয় দফা চিরুনি অভিযান আজ মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। এ দশ দিনে মোট ১ লক্ষ ৩০ হাজার ৯৭৭টি বাড়ি, স্থাপনা, নির্মাণাধীন ভবন ইত্যাদি পরিদর্শন করে মোট ৮৯৮টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়, যা মোট স্থাপনার শতকরা ০.৬৯ ভাগ। এছাড়া ৭৮ হাজার ১৩০টি স্থাপনায় এডিস মশা বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় এ দশ দিনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১৬৮টি মামলায় মোট ২১ লক্ষ ৬৮ হাজার ১০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
আজ চিরুনি অভিযানের দশম দিনে মোট ১১ হাজার ৯৩৪টি স্থাপনা পরিদর্শন করে ৪৮টিতে লার্ভা এবং ৬ হাজার ৭৯৪টিতে এডিসের বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এডিসের লার্ভা পাওয়ায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এ সময় ১৭টি মামলায় ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

আজ উত্তরা অঞ্চলে (অঞ্চল-১) মোট ৯৭০টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ১২টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং ৮২৭টি স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ৮টি মামলায় ৩১ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

মিরপুর অঞ্চলে (অঞ্চল-২) মোট ২ হাজার ৩৮৪টি স্থাপনা পরিদর্শন করে ২টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায় এবং ৩৭৮টি স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১টি মামলায় মোট ১০ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

মহাখালী অঞ্চলে (অঞ্চল-৩) মোট ১ হাজার ৪৩৩টি স্থাপনা পরিদর্শন করে ১৭টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায় এবং ৭৪৫টি স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ৬টি মামলায় ৯৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মিরপুর-১০ অঞ্চলে (অঞ্চল-৪) মোট ১ হাজার ৩৭২টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করা হয় তবে কোথাও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায় নি। তবে ৭৫৩টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

কারওয়ান বাজার অঞ্চলে (অঞ্চল-৫) মোট ১ হাজার ৯২৩টি বাড়ি/স্থাপনা পরিদর্শন করে ৮টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া ১ হাজার ৫৮৭টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এখানে ২টি মামলায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

হরিরামপুর অঞ্চলে (অঞ্চল-৬) মোট ১ হাজার ১০৩টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ১টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া ৯১০টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

দক্ষিণখান অঞ্চলে (অঞ্চল-৭) মোট ৮৩১টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ৩টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে বাড়ির মালিকদেরকে সতর্ক করে লার্ভা ধ্বংস করা হয়। এছাড়া ৬৩৪টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

উত্তরখান অঞ্চলে (অঞ্চল-৮) মোট ৬৭০টি বাড়ি/স্থাপনা পরিদর্শন করে ১টি স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। তবে ৪০৫টি স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

ভাটারা অঞ্চলে (অঞ্চল-৯) মোট ৫২৫টি স্থাপনা পরিদর্শন করে কোথাও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায় নি। তবে ২১০টি স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

সাতারকুল অঞ্চলে (অঞ্চল-১০) মোট ৭২৩টি বাড়ি/স্থাপনা পরিদর্শন করে ৪টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে বাড়ির মালিকদেরকে সতর্ক করে লার্ভা ধ্বংস করা হয়। এছাড়া ৫৪৫টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

চিরুনি অভিযান চলাকালে সম্ভাব্য সকল এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনাপূর্বক কীটনাশক ছিটানো হয়েছে এবং জনসাধারণকে এবিষয়ে পরবর্তীতে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।