ঢাকা সোমবার, ১৭ই জুন ২০১৯, ৪ঠা আষাঢ় ১৪২৬


গত বছরের তুলোনাই দাম বেড়েছে ইলিশের


১২ এপ্রিল ২০১৯ ১৮:০১

আপডেট:
১৭ জুন ২০১৯ ০৯:২১

ছবি সংগৃহীত

একটা সময় ছিল পহেলা বৈশাখ মানেই সকালে উঠে পান্তা ভাতের সঙ্গে ইলিশ ভাজা খাওয়া। তবে ২০১৭ সাল থেকে এ রীতিতে কিছুটা ভাটা নামে। দুয়ারে কড়া নাড়ছে বাঙালির সার্বজনীন উৎসব পহেলা বৈশাখ। এরপরও পহেলা বৈশাখ কেন্দ্রিক ইলিশের দাম বাড়ার প্রবণতা থেমে থাকেনি। গত ২ বছরের তুলনায় এবার রাজধানীর বাজারগুলোতে পহেলা বৈশাখ কেন্দ্রিক ইলিশের দাম তুলনামূলক বেশি বেড়েছে। এ দাম বাড়ার পালে হাওয়া লাগিয়েছে কিছু কিছু সুপার শপ। বাজারে ইলিশ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সুপার শপে বিক্রি হচ্ছে তার চেয়ে দ্বিগুণ দামে। আবার বাজার ভেদে ইচ্ছেমতো দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ।

রামপুরায় অবস্থিত স্বপ্নের সুপার শপে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি পিস ইলিশ বিক্রি করা হচ্ছে ১৫০০ টাকা করে। একই আকারের ইলিশ রামপুরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে। আর কারওয়ান বাজার ও যাত্রাবাড়ীতে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ইলিশের দামে এমন তারতম্যের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বপ্নের এক বিক্রয় কর্মী বলেন, বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে আমাদের সব পণ্যের দাম রেট করা। আমাদের যে দামে বিক্রি করতে বলা হয়েছে আমরা সে দামে বিক্রি করি। আমাদের কাছে ক্রেতাদের দরদাম করে কিছু কিনতে হয় না। ক্রেতাদের সামনে প্রকাশ্য মূল্য তালিকা থাকে। ক্রেতারা সেই মূল্য দেখেই কেনেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর বাজারগুলোতে এবার বৈশাখ কেন্দ্রিক ইলিশের দাম বাড়লেও ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ইলিশের দাম স্বাভাবিক ছিল।

২০১৭ সালের ১১ এপ্রিলে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশবাসীকে পহেলা বৈশাখে ইলিশ না খাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা ইলিশ খাবেন না, ইলিশ ধরবেন না। এ সময় প্রধানমন্ত্রী পহেলা বৈশাখের খাদ্য তালিকা হিসেবে- খিচুড়ি, সবজি, মরিচ ভাজা, ডিম ভাজা ও বেগুন ভাজার কথা উল্লেখ করেন।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ওই আহ্বানের কারণে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে বৈশাখ কেন্দ্রিক ইলিশের চাহিদা কিছুটা হলেও কমে যায়। সেই সঙ্গে ইলিশের ঊর্ধ্বমুখী দামেও ছেদ পড়ে। তবে দুই বছর বিরতি দিয়ে এবার আবার ইলিশের দাম বেড়েছে।

শুক্রবার সকালে কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজারটির ব্যবসায়ীরা ৮০০-৯০০ গ্রাম আকারের ইলিশ বিক্রি করছেন ১৪০০-১৫০০ টাকা পিস, যা গত বছর ছিল ৮০০-৯০০ টাকা। ৬০০-৭০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি করছেন ৮০০-৯০০ টাকা পিস, যা গত বছর ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। আর ৩৫০-৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি করছেন ৮০০-৯০০ টাকা জোড়া, যা গত বছর ৮০০ টাকা হালি ছিল।

কথা হয় বাজারটির মাছ ব্যবসায়ী সুকুমারের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি কারওয়ান বাজারে এক যুগ ধরে মাছের ব্যবসা করছি। প্রতিবারই দেখেছি পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকেই ইলিশের দাম বহুগুণে বেড়ে যায়। তবে গত দুই বছর বৈশাখের সময় ইলিশের দাম একটুও বাড়েনি বরং কমে গিয়েছিল। দুই বছর বিরতি দিয়ে ইলিশের দাম এবার কিছুটা বেড়েছে। তবে বৈশাখ কেন্দ্রিক আগে যেমন ইলিশ বিক্রি হতো এখন তেমনটা হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ইলিশের দাম প্রায় দ্বিগুণ এটা সত্য। কিন্তু এখন যে ইলিশ দেড় হাজার টাকায় বিক্রি করছি ২০১৭ সালের আগে এসব ইলিশ বৈশাখে বিক্রি হতো আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায়।

এ ব্যবসায়ী বলেন, বৈশাখ উপলক্ষে এক সময় আমরা দুই তিন মাস ধরে ফ্রিজে ইলিশ সংরক্ষণ করতাম। গত দুই বছর ফ্রিজে ইলিশ রেখে অনেকেই ধরা খেয়েছেন। এ কারণে এবার মজুদের পরিমাণ কম। আবার জেলেদের জালে এখন ইলিশ খুব একটা ধরা পড়ছে না। ফলে বাজারে ইলিশের সরবরাহ তুলনামূলক কম, এ কারণে হয়তো এবার ইলিশের দাম কিছুটা বেড়েছে।

বাজারটির আকের ব্যবসায়ী তারা মিয়া বলেন, এখন বাজারে সব থেকে বড় আকারের যে ইলিশ মাছ পাওয়া যাচ্ছে তার ওজন ৯০০ গ্রাম থেকে এক কেজি । দুই মাস আগে এ আকারের ইলিশ বিক্রি করেছি ৮০০-১০০০ টাকা পিস। আর এখন বিক্রি করছি ১৪০০-১৫০০ টাকায়।

বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের দাম বাড়ার কথা জানান যাত্রাবাড়ী ও রামপুরার ব্যবসায়ীরাও। যাত্রাবাড়ীতে ৮০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ ব্যবাসায়ীরা বিক্রি করছেন ১৩০০-১৪০০ টাকা পিস। ৬০০-৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ৭০০-৮০০ টাকা।

রামপুরার ব্যবসায়ীরা ৮০০-৯০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি করছেন ১৫০০-১৬০০ টাকা পিস। ৬০০-৭৫০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি করছেন ৯০০-১০০০ টাকা। আর ৩০০-৪০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকা পিস।

যাত্রাবাড়ীর ব্যবসায়ী সুবল বলেন, গত দুই বছরের তুলনায় এবার ইলিশের দাম একটু বেশি। তবে বৈশাখ কেন্দ্রিক ইলিশের বিক্রি খুব বেড়ে গেছে তা নয়। একসময় বৈশাখ উপলক্ষে যে পরিমাণ ইলিশ বিক্রি হতো এখন তার অর্ধেকও হচ্ছে না।

বৈশাখে ইলিশ বিক্রি কমে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত বছরের আগের বছর প্রধানমন্ত্রী পহেলা বৈশাখে ইলিশ না খাওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে ইলিশ না খাওয়ার ঘোষণা আসে। এতে ইলিশের বিক্রি কমে যায়। এর রেশ এখনো রয়েছে।

রামপুরার ব্যবসায়ী সুমন বলেন, এবার বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের দাম কিছুটা বেড়েছে তবে অস্বাভাবিক বাড়েনি। ছোট ইলিশের দাম হালিতে একশ থেকে দেড়শ টাকার মতো বেড়েছে। তবে বড় ইলিশের দাম তুলনামূলক একটু বেশি বেড়েছে। বড় ইলিশের দাম দুই মাসের ব্যবধানে পিসে বেড়েছে ৩০০ টাকার মতো।

নতুনসময় / আইআর