ঢাকা শুক্রবার, ২৬শে এপ্রিল ২০১৯, ১৪ই বৈশাখ ১৪২৬


'মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতেই বাকশাল গঠন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু'


২৫ মার্চ ২০১৯ ১৮:৫৭

আপডেট:
২৬ মার্চ ২০১৯ ০২:৪১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার চিন্তা থেকেই বাকশাল গঠন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। এই ঐক্যের মধ্যে দিয়ে সবাই দেশের উন্নয়নে কাজ করবে। জাতির পিতা যে পদ্ধতিটা নিয়েছিলেন এটা যদি কার্যকর করা যেত তাহলে বাংলাদেশে আর কখনো জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে কেউ খেলতে পারত না। জনগণ তার মনমতো প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারত।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৯ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অভ্যন্তরে যারা পরাজিত শক্তি ছিল তাদের দোসর, আমাদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করা এবং সেখানে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে এমন কিছু ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালায় যেটা তাকে কঠোরভাবে সামাল যেমন দিতে হয়েছে। আবার সেই সঙ্গে সঙ্গে যে সমস্ত আন্তর্জাতিক শক্তি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সাহায্য করেছিল, স্বাধীনতা যাতে অর্জন করতে না পারি তার জন্য চক্রান্ত করেছিল, তাদের চক্রান্তও কিন্তু থেমে যায়নি।

স্বাধীনতা পরবর্তী জাতির পিতার কর্মসূচি ও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের কথা তুলে তিনি বলেন, এমনই একটি অবস্থার মাঝে জাতির পিতা সিদ্ধান্ত নেন, যে করেই হোক আমাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে। দেশের উন্নয়ন বাড়াতে হবে এবং দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। বাকশাল গঠনের পর এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল।

তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের দোসরসহ আন্তর্জাতিকভাবে একটা বিরাট চক্রান্ত কাজ করছিল। যখন তারা দেখল এর ফলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে উন্নত হবে, স্বাবলম্বী হবে আর বাংলাদেশকে কখনো থামিয়ে রাখা যাবে ঠিক তখনি তারা তাদের চক্রান্ত শুরু হলো। কারণ জাতির পিতার উদ্যোগটা ছিল, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক লীগ গঠন করে সকল দলকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু এমন একটা ব্যবস্থা দিয়েছিলেন, যেহেতু ’৭৩ এ সংবিধান দেওয়ার সঙ্গে ’৭৩ এ নির্বাচন হয়। খুব স্বাভাবিকভাবে আওয়ামী লীগ জয় লাভ করে। মাত্র ৯টি আওয়ামী লীগের বাইরে অন্যরা পেয়েছিলেন। তারপরও তিনি অন্যান্য যে রাজনৈতিক দলগুলো তারা হয়তো নির্বাচনে জয়ী হতে পারে না।

বাকশালে ভোটের অধিকারের বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এই অধিকারটা তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে যাতে পৌঁছায় এবং তারা যেন স্বাধীনভাবে তাদের মত প্রকাশ করতে পারে, সেই সুযোগটা তিনি সৃষ্টি করে দিতে চেয়েছিলেন। কারণ এখানে তার একটা যুক্তি ছিল।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে পদক বিতরণ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৯ বিজয়ী ১২ জন ব্যক্তির হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নতুনসময়/আইকে