ঢাকা শনিবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০ই ফাল্গুন ১৪৩২


যথাযোগ্য মর্যাদায় ভাষা শহীদদের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা


২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৩

সংগৃহীত

যথাযোগ্য মর্যাদায় ভাষা শহীদদের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্যে সারাদেশে পালিত হচ্ছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের প্রথম প্রহরে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পাশাপাশি, দোয়া ও মোনাজাতে ১৯৫২ থেকে ২০২৪-এর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সরকারের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা।

 

১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার জন্য অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিলেন জাতির বীর সন্তানরা। একুশের প্রথম প্রহরে, রাত ১২টা ১ মিনিট থেকেই সারাদেশের সব শহীদ মিনারে ঢল নামে মানুষের। দিবসটিকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি।

 

এদিকে, একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাত বারোটা বাজার এক মিনিট আগে শহীদ বেদীতে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি।

 

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিনারে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় তিনি শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে শ্রদ্ধা জানান ভাষা শহীদদের প্রতি। এরপর শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মন্ত্রিসভার সদস্যসহ এসময় উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরাও।

 

পরে দলীয় প্রধান হিসেবে নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিএনপি চেয়ারম্যান। সবশেষে তারেক রহমান তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জায়মা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

 

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ৫২-এর অকুতোভয় বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিন বাহিনী প্রধান। পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের বেদীতে শ্রদ্ধা জানান তারা। এরপর একে একে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

 

অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জামায়াত আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরাও। এসময় শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। বিরোধীদলীয় নেতা জানান, রাষ্ট্রীয় আচারের অংশ হিসেবে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে গিয়েছেন তারা। পরে, আজিমপুরে শহীদদের কবরে দোয়া-মোনাজাত করেন জামায়াত আমির।

 

আর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। খালি পায়ে, হাতে গুচ্ছ ফুল নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানাতে শহীদ বেদীতে ভিড় করেন সাধারণ মানুষ। কেউ একা, কেউ পরিবারের ছোট্ট শিশুকে নিয়ে হাজির ইতিহাসের কাছে। ভাষা সংগ্রামের গৌরবগাঁথা তুলে ধরার পাশাপাশি, বাবা-মা আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরেন মাতৃভাষার তাৎপর্য।

 

বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে অনেকে এসেছেন ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। ফুলের ডালার পাশাপাশি সবার হাতেই ছিল ভাষার মর্যাদা রক্ষার বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড। ভাষার চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি, বাংলা ভাষার অপব্যবহার রুখতে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।