ঢাকা শুক্রবার, ১০ই এপ্রিল ২০২০, ২৭শে চৈত্র ১৪২৬


মুক্তি পেয়ে `ফিরোজা‘র বাসায় খালেদা জিয়া


২৫ মার্চ ২০২০ ১৫:২৭

আপডেট:
২৫ মার্চ ২০২০ ১৬:৪৪

অবশেষে মুক্তি পেলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। মুক্তির পর ছোট ভাইয়ের প্রাইভেটকারে করে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় ফিরে গেছেন তিনি। কারামুক্তির শর্ত অনুসারে  গুলশান ৭৯ নম্বর রোডের ১ নম্বরের এই বাসায়ই থাকতে হবে তাকে।

সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া চারটার দিকে ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের জিম্মায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ডা. হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত মেডিকেল টিমের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। আর চেয়ারপারসনের মুক্তির খবরে দুপুরের আগ থেকেই হাসপাতালের সামনে ভিড় জমিয়েছিলেন নেতাকর্মীরা।

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে বন্দি আছেন খালেদা জিয়া। প্রথমে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হলেও গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে দুই শর্তে খালেদা জিয়াকে ছয়মাসের জন্য মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় সরকার। আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক তার নিজ বাসভবনে ব্রিফিংয়ে জানান, সরকার ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় খালেদা জিয়ারি সাজা স্থগিত রেখে ছয়মাসের জন্য মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য তাকে দুই শর্ত মেনে চলতে হবে— থাকতে হবে নিজ বাসভবনে, দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। এরপর আইন মন্ত্রণালয় থেকে সে বিষয়ক চিঠি পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

বুধবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো খালেদা জিয়ার মুক্তির ফাইলে অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখান থেকে ফের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে খালেদা জিয়ার কারামুক্তির নির্বাহী আদেশ পৌঁছে দেওয়া হয় কারা মহাপরিদর্শকের কাছে। সেখান থেকে জেল সুপার হয়ে বিএসএমএমইউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আদেশটি পেলে মুক্তি পান খালেদা জিয়া।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান,দুই শর্তে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে ছয়মাসের জন্য। শর্ত দুটি হলো, বিদেশ যেতে পারবেন না এবং তার নিজের বাড়িতে অবস্থান করতে হবে।

খালেদার মুক্তি নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার শাস্তি ছয়মাসের জন্য স্থগিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার প্রাজ্ঞ, অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের পরিচয় দিয়ে উদার নৈতিক ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আশা করি, বিএনপি এ বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে আমাদের সবার অভিন্ন শত্রু করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের সহযোগী হবেন।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালত ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। সেদিনই তাকে কারাগারে নেওয়া হয়। সেই থেকে তিনি কারাবন্দি। এ মামলায় হাইকোর্ট ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর এক রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেছেন। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল আপিল বিভাগে বিচারাধীন।
এ ছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে ৭ বছর কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। এরপর এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন খালেদা জিয়া। এই আপিল হাইকোর্টে বিচারাধীন।

নতুন সময়/এআর