ঢাকা বুধবার, ১৯শে ডিসেম্বর ২০১৮, ৬ই পৌষ ১৪২৫


মার্কিন তালিকায় পড়ে গেল বিএনপি!


১১ অক্টোবর ২০১৮ ২০:২৭

আপডেট:
১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ ২০:৪৬

বুধবার (১০ অক্টোবর) ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা’ মামলায় রায় দেন আদালত। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ‘জঙ্গি সংগঠন’ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত হতে পারে বিএনপি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি চেয়েছে মার্কিন দূতাবাস।

এ বিষয়ে মার্কিন দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনার পর এ ব্যাপারে দূতাবাস তার মতামত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে পাঠাবে।’

মার্কিন দূতাবাস সূত্রমতে, গতকাল (বুধবার) ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় রায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্পর্শকাতর কিছু প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠনের নাম এসেছে। ২০০৪ সালে সংগঠিত এই গ্রেনেড হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের কাশ্মীরভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ‘হিজবুল মুজাহিদিন’ এর নাম এসেছে। ‘হিজবুল মুজাহিদিন’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত। ঐ মামলার রায়ে জঙ্গি নেতা ইউসুফ বাটের নামও এসেছে।

ইউসুফ বাট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তালিকা অনুযায়ী ‘কুখ্যাত’ ব্যক্তি। গতকাল বিচারক শাহেদ নুরুদ্দিন যে রায় দিয়েছেন তাতে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন ‘হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের’ (হুজি) সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। হরকাতুল জিহাদও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিবেচনায় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত।

গ্রেনেড হামলার মামলায় আদালতের দেয়া রায়ে বলা হয়েছে, এই সব জঙ্গি সংগঠন এবং জঙ্গিদের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া একাধিকবার বৈঠক করেছেন। তাদের জঙ্গি তৎপরতার জন্য মদদ দিয়েছেন এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার ব্যবস্থা করেছেন। শুধু তারেক জিয়া একা নন, বিএনপির একাধিক নেতা এর সঙ্গে জড়িত বলে আদালত তার রায়ে উল্লেখ করেছে।

এজন্য বিএনপির দুই নেতা, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু মৃত্যুদণ্ডাদেশ পেয়েছেন। তারেক জিয়া ছাড়াও যে সব বিএনপি নেতৃবৃন্দ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি পেয়েছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হারিছ চৌধুরী এবং কায়কোবাদ।

জঙ্গিবাদ সংক্রান্ত মার্কিন নীতিমালায় বলা হয়েছে যে, কোনো সংগঠন যদি কোনো কাজে জঙ্গি সংগঠন বা ব্যক্তিদের ব্যবহার করে সেক্ষেত্রে ঐ সংগঠনও জঙ্গি সংগঠনের সহায়ক বলে বিবেচিত হবে। মার্কিন দূতাবাস মনে করছে, তারেক এবং বিএনপির দণ্ডিত ঐ নেতৃবৃন্দ যদি ‘হিজবুল মুজাহিদিন’ এবং ‘হরকাতুল জিহাদ’ এর যোগসাজশে ঐ গ্রেনেড হামলার ঘটনা তাহলে বিএনপিও মার্কিন নীতি অনুযায়ী জঙ্গি ও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত হতে পারে। তবে, যদি এই রায়ের পর যারা এই অপরাধের জন্য দণ্ডিত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়, সেক্ষেত্রে বিএনপি ‘হয়তো’ এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নাও হতে পারে।

তবে, এই রায়ে যদি জঙ্গি সংগঠন দু’টির সঙ্গে তারেক জিয়ার প্রত্যক্ষ যোগাযোগের স্বীকৃতি পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে তারেককে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জঙ্গি হিসেবে মার্কিন কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঐ ব্যক্তির মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করে। এ ধরনের সব সংগঠনের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসন সম্পর্কচ্ছেদ করে। এ ধরনের সংগঠন নিষিদ্ধের জন্য ঐ দেশে কূটনীতিক চাপ প্রয়োগ করে। বিএনপির ব্যাপারে এ রকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কিনা; তা নির্ভর করছে; দূতাবাস এই রায়ের কি ব্যাখ্যা দেয় তার ওপর।