ঢাকা বুধবার, ১৯শে ডিসেম্বর ২০১৮, ৬ই পৌষ ১৪২৫


বিএনপিকে ভ্যানিশ করার প্রস্তাব!


৯ অক্টোবর ২০১৮ ১০:২৭

আপডেট:
১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ ২০:৪৬

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপিকে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা সভাপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তার ওই প্রস্তাবে যুক্তফ্রন্ট ও ঐক্যপ্রক্রিয়ার সম্ভাব্য জোটকে ১২০ আসন দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া ১৫০ আসন বিএনপির। বাকি ৩০ আসনের মধ্যে ২০ দলের শরিকদের জন্য ২০ টি আসন ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। আর ১০ টি আসন সুধীসমাজের জন্য রাখতে বলা হয়েছে।

বদরুদ্দোজা চৌধুরীর এ প্রস্তাবকে অবাস্তব আখ্য দিয়ে বিএনপি ও তাদের শরিক দলগুলোর নেতারা বলেছেন, বিএনপিকে ভ্যানিশ করার জন্য চমৎকার একটি প্রস্তাব এটি। এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে রাজনীতিতে বিএনপির কোন নাম-চিহ্নও থাকবে না। তারা মনে করেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বি চৌধুরীর প্রস্তাব অনুযায়ী যুক্তফ্রন্ট ও ঐক্যপ্রক্রিয়ার জোটকে ১২০ টি আসন দেয়া হয় তারা সেখান থেকে ২০টি আসনেও জয়ী হয়ে আসতে পারবে না। তাদের জোটে এমন কোন হেভিওয়েট নেতা নেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক নেতা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, এতদিন ধরে নানা শর্তের কারনে বিএনপির সঙ্গে তাদের ঐক্য হচ্ছিল না। তাদের অবাস্তব প্রস্তাবের কারনেই ঐক্য গঠন প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাচ্ছে। এখন নতুন করে যে ফর্মুলা বা প্রস্তাব দেয়া হয়েছে এটা বিএনপিকে ধ্বংস করার ফর্মুলা। তাছাড়া তাঁরা যে ১২০ টি আসন দাবি করেছে সেখান থেকে বড় জোর পাঁচ কি ছয়টি আসনে তারা জয়ী হতে পারেন। এর বেশি নয়।

২০ দলীয় জোটের শরিক একটি দলের একজন শীর্ষ নেতা বলেন, মূলত ২০ দলীয় জোট ভাঙ্গার একটি মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন বিকল্পধারা সভাপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তার এই ফর্মুলা ঐক্য গড়ার জন্য নয়, ভাঙ্গার জন্য। দুঃসময়ে এই শরিক দলগুলোই বিএনপিকে সঙ্গ দিয়ে এসেছে। বিএনপির ঢালপালা ছেটে বিএনপিকে নিঃসঙ্গ করার জন্য তাদের এই প্রয়াশ।


জানা গেছে, বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপির সঙ্গে ঐক্যের নতুন ফর্মুলা দিয়েছেন। ওই ফর্মুলায় বিএনপিকে ১৫০ আসন এবং যুক্তফ্রন্ট ও ঐক্যপ্রক্রিয়ার সম্ভাব্য জোটকে ১২০ আসন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। জামায়াতকে বাদ দিয়ে ২০ দলের শরিক ১৮ দলকে ২০টি আসন এবং সুধীসমাজের মধ্য থেকে ১০ জনকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সুধীসমাজের জন্য ছেড়ে দেওয়া ১০টি আসনের মধ্যে পাঁচটি বিএনপির পছন্দে এবং পাঁচটি যুক্তফ্রন্ট ও ঐক্যপ্রক্রিয়া পছন্দ অনুযায়ী মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বি চৌধুরীর ফর্মুলায় বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বিএনপির পছন্দ অনুযায়ী হবে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি ও ন্যায়পাল পদে মনোনয়ন হবে যুক্তফ্রন্ট ও ঐক্যপ্রক্রিয়ার পছন্দ অনুযায়ী। এছাড়া জোট ঘোষিত হওয়া মাত্র ২০ দলীয় জোটের কর্মকাণ্ড স্থগিত ও নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে এবং জাতীয় যুক্তফ্রন্টের নামে কর্মসূচি পালন করা হবে। তবে দলগুলো নিজ নিজ উদ্যোগে নিজস্ব কর্মসূচি পালন করতে পারবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।

সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে লিখিত ওই প্রস্তাব তুলে দেওয়া হয়েছে বলে যুক্তফ্রন্টের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন। তবে বিএনপি ওই প্রস্তাবে গুরুত্ব দিতে চাইছে না। বরং এ ধরনের প্রস্তাবকে তারা বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছে। সোমবার রাতে জেএসডির সভাপতি আ স ম রবের বাসায় অবশ্য ওই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ঐক্যে আগ্রহী দলগুলোর দাবিদাওয়া নিয়ে অবশ্যই আলোচনা হবে।আলোচনা চলছে, আলোচনা চলবে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়টি আমরাও চাই। তবে সেটি আলোচনার মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসবে।’

এর আগে গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও তাঁর ছেলে মাহী বি চৌধুরী দেড় শ আসন দাবি করেন। বিএনপি ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয় বলে জানা যায়।

আরকেএইচ