ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩শে অক্টোবর ২০১৮, ৮ই কার্তিক ১৪২৫


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রথম মামলা


১১ অক্টোবর ২০১৮ ১৮:০১

আপডেট:
১১ অক্টোবর ২০১৮ ২০:৩৬

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ভূয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী প্রতারক চক্রের গ্রেপ্তার ৫ জন সদস্যকে পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা দেওয়া হয়েছে বলে জানান সিআইডি’র অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল‍্যা নজরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১ টায় মালিবাগ সিআইডি প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, এই প্রশ্ন ফাঁসকারী প্রতারণা চক্রের মাস্টার মাইন কাউসার গাজীকে গ্রেপ্তার করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানাই যে বর্তমানে আমরা প্রশ্ন ফাঁস করতে পারছিনা তাই নিজেদের মতন করে প্রশ্ন তৈরি করে। বিভিন্ন ফেক ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে ১০০% গ্রান্টি যে প্রচারণা চালায় শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করছি।

নজরুল ইসলাম জানান, মাস্টারমাইন্ড কাউসার গাজীকে এ কাজে সহযোগিতা করতো তার বন্ধু সোহেল মিয়া। সে অন্যের জাতীয় পরিচয় পত্র ব্যবহার করে ভূয়া বিকাশ একাউন্ট খোলার মাধ্যমে টাকা লেনদেন করত।

তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডিকে আরো জানান, যে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের কাজ করে আসছে। কিন্তু এইবার প্রশাসনের তৎপরতার কারণে তারা প্রশ্নপত্র ফাঁস করতে পারেনি। কিন্তু ভুয়া প্রশ্নপত্র তৈরি করে ১০ টি ফেক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এর মাধ্যমে মেডিকেলের প্রশ্ন পাওয়া যাচ্ছে আমি প্রচারণা চালায়।

এ সময় তারা জানায়, তারা এই ফেক প্রশ্নপত্র তৈরি করতে বিভিন্ন সাজেশন বই, বিগত বছরগুলোর প্রশ্নপত্র একত্রে করে একটি ভুয়া প্রশ্নপত্র তৈরি করে।

এই ভুয়া প্রশ্নপত্র কতিপয় ব্যক্তির ফেসবুক একাউন্টে প্রচারণা চালানোর মর্মে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম টিম গতকাল (১০ অক্টোবর) ৭ টার সময় রাজধানীর কাজলা পার, দনিয়া, যাত্রাবাড়ী অভিযান চালিয়ে দুটি মোবাইল ও একটি বিকাশ রেজিস্টার খাতাসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করে। এবং একই দিন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৯ টার দিকে বাড্ডা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বাড্ডা থানাধীন আলিফ নগর এলাকা থেকে ৩ জনকে তিনটি মোবাইল ও দুটি ল্যাপটপ সহ গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- পিরোজপুর ভান্ডারিয়ার কালাম গাজীর ছেলে কাউসার গাজী (১৯), চাঁদপুর মতলবের জাকির হোসেনের ছেলে সোহেল মিয়া (২১), মাদারীপুর কালকিনির হাসানুর রশীদ এর ছেলে তারিকুল ইসলাম শোভন (১৯), নওগাঁ পত্নীতলার আলমের ছেলে রুবাইয়াত তানভির (আদিত্য), টাঙ্গাইল কালিহাতীর আনসার আলীর ছেলে মাসুদুর রহমান ইমন। এসময় আসামিদের কাছ থেকে ৫টি মোবাইল, ২টি লেপটপ ও বিকাশের বিন রেজিস্টার খাতা উদ্ধার করা হয়।

এ সময় বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, এই মামলাটি তদন্ত দিন আছে আমরা আশা করি আরো বেশ কিছু এই প্রতারক চক্রের সদস্য কে আমরা গ্রেপ্তার করতে পারব। গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের তথ্য অনুযায়ী। সিআইডি অর্গানাইজ ক্রাইম টিম এইসব দুর্নীতি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে বদ্ধপরিকর।

আইএমটি