ঢাকা বুধবার, ১৯শে ডিসেম্বর ২০১৮, ৬ই পৌষ ১৪২৫


ঘূর্ণিঝড় তিতলি: ঘরছাড়া ৩ লাখ মানুষ


১১ অক্টোবর ২০১৮ ১৬:১১

আপডেট:
১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ ২০:৪৬

ছবি সংগৃহীত

ভারতের ওড়িশা রাজ্যের গোপালপুরে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঘূর্ণিঝড় তিতলি আঘাত হানে। এতে অন্ধ্র প্রদেশের দুজন নিহত হয়েছেন। প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা ভূমিধস হয়েছে। কুচা এলাকায় বহু বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘন্টায় ৬৫ কিলোমিটার বেগে আসা ঝড়ো বাতাসে বিভিন্ন স্থানে উঁপড়ে ফেলেছে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি। বঙ্গোপসাগরের 'তীব্র মাত্রর সাইক্লোন ঝড়' হিসেবে গণ্য হয়েছে তিতলি। ওড়িশার উপকূলীয় অঞ্চলের তিন লাখের অধিক মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ভারতের ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথোরিটি এসব তথ্য জানায়।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলামে ঘণ্টায় ৫৬ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে তিতলি। এ সময় বাড়ি ভেঙে পড়ে মারা যান ৫৫ বছর বয়সী সূর্য মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি। একই সময়ে গাছ ভেঙে পড়ে মারা যান ৬২ বছরের এক বৃদ্ধ।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে প্রশাসন। সমুদ্র সৈকতে কাউকেই যেতে দেওয়া হচ্ছে না। বেহরামপুর থেকে গোপালপুরের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভারী বর্ষণে কোথাও কোথাও বন্যা দেখা দিয়েছে।

ইতিমধ্যে উদ্ধারকর্মীদের দল পৌঁছেছে উপকূলবর্তী এলাকায়। চালু করা হয়েছে কন্ট্রোলরুম সেবা। ওড়িশা রাজ্যে এক হাজারের অধিক ত্রাণ ক্যাম্প চালু করা হয়েছে। ১০৫ জন গর্ভবতী নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষ ত্রাণ কমিশনার বিয়ানুপাদা শেঠি।

তিতলির প্রভাবে রাজ্যে আগামী চারদিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর।

চব্বিশ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, হাওড়া, কলকাতা ও বর্ধমানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছেন দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর। ওড়িশা উপকূল হয়ে 'তিতলি' ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পশ্চিমবঙ্গের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তিতলি সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরেছে।

১. ওড়িশার গোপালপুরে ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে আঘাত হানে তিতলি। তীব্র বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ কিলোমিটার।

২. সাইক্লোন তিতলির কারণে ওড়িশা থেকে অন্ধ্র প্রদেশের মধ্যকার সকল বিমান ও ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

৩. ওড়িশার আটটি ডিস্ট্রিক্ট- গাঞ্জাম, গজপতি, কুদ্রা, পুরি, জাগাস্টসিংপুর, কেন্দ্রপাড়া, ভাদ্রাক এবং বারাসোর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

৪. গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে। এতে বিদ্যুতব্যবস্থা এবং রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া মাটির তৈরির ঘরগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

৫. ওড়িশার ৫টি উপকূলীয় শহর থেকে কমপক্ষে ৩ লাখ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে রাজ্য সরকার।

৬. ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে মারাত্মক বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাড়িছাড়া মানুষগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্রে স্থান দেয়া হয়েছে। গর্ভবতী নারীদের রাখা হয়েছে হাসপাতালে।

৭. ভারতের আবহাওয়া দপ্তর জানায়, এই সাইক্লোনের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানা শেষ হয়েছে। স্থলভাগে রয়েছে এর 'সেন্টার অব আই অব সাইক্লোন'।

৮. এখন তিতলি পশ্চিমবঙ্গের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তবে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

৯. তীব্র শক্তির এই ঝড়ের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে গোপালপুর এবং পারাদিপের আবহাওয়া রাডারের মাধ্যমে।

১০. মুখ্য মন্ত্রী নাভিন পাটনায়েক বিপদগ্রস্তদের সহায়তা দিতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন বলে জানিয়েছেন।
সূত্র: এনডিটিভি

আরকেএইচ